প্রাণিজগতের শ্রেণিবিন্যাস

প্রাণিজগতের বিভিন্ন প্রাণীর সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্যের ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন বিভাগ, শ্রেণি, গোত্র, গণ, প্রজাতিতে বিভক্ত করার প্রক্রিয়াকে শ্রেণিবিন্যাস বলে।

  • আজ পর্যন্ত আবিষ্কৃত প্রাণীর প্রজাতির সংখ্যা প্রায় ১৫ লক্ষ
  • অ্যানিম্যালিয়া জগৎকে নয়টি পর্বে ভাগ করা হয়েছে
  • শ্রেণিবিন্যাসের সবচেয়ে ছোট ধাপ বা ক্ষুদ্রতম একক প্রজাতি
  • প্রকৃতি বিজ্ঞানী ক্যারোলাস লিনিয়াস কে শ্রেণিবিন্যাসের জনক বলা হয়
  • ক্যারোলাস লিনিয়াস দ্বিপদ নামকরণ প্রথা প্রবর্তন করেন

১। পরিফেরা (Porifera)

স্বভাব ও বাসস্থান : সাধারণত এরা স্পঞ্জ (sponge) নামে পরিচিত। পৃথিবীর সর্বত্রই এদের পাওয়া যায়। এদের অধিকাংশ প্রজাতি সামুদ্রিক। তবে কিছু কিছু প্রাণী স্বাদু পানিতে বাস করে। এরা সাধারণত দলবদ্ধ হয়ে বসবাস করে।
সাধারণ বৈশিষ্ট্য

  • বহুকোষী দেহে সুনির্দিষ্ট কলা, কলাতন্ত্র, অঙ্গ এবং অঙ্গতন্ত্র অনুপস্থিত।
  • এদের দেহপ্রাচীর অসংখ্য ছিদ্রযুক্ত। এই ছিদ্রপথে পানির সাথে অক্সিজেন ও খাদ্যবস্তু প্রবেশ করে।
  • সকলেই জলজ প্রাণী যাদের বেশিরভাগ সামুদ্রিক সামান্য কিছু প্রজাতি স্বাদুজলের।
  • পরিফেরা পর্বের প্রাণীরা সাধারণত স্পঞ্জ নামে পরিচিত

২. নিডারিয়া (Cnidaria)

নিডারিয়া বলতে দ্বিস্তর ভ্রূণ বিশিষ্ট প্রাণিদের কে বোঝায়। এরা ইতিপূর্বে সিলেনটারেটা (Coelenterata) নামে পরিচিত ছিলো। এদের অধিকাংশই সামুদ্রিক, কিছু স্বাদুপানির (খাল, বিল, নদী, হ্রদ, ঝরনা) বাসিন্দা।

  • এদের দেহ দুটি ভ্রণীয় কোষস্তর দ্বারা গঠিত
  • দেহের বাইরের দিকের স্তরটি এক্টোডার্ম এবং ভিতরের স্তরটি এন্ডোডার্ম
  • এদের দেহ গহ্বরকে সিলেন্টেরন বলে
  • একটোডার্মে নিডোব্লাস্ট নামে এক বৈশিষ্ট্যপূর্ণ কোষ থাকে। এই কোষগুলো শিকার ধরা, আত্মরক্ষা, চলন ইত্যাদি কাজে অংশ নেয়।
  • একাকী অথবা দলবদ্ধভাবে কলোনি গঠন করে বাস করে
  • এরা সাধারণত পানিতে ভাসমান কাঠ, পাতা বা অন্য কোনো কিছুর সঙ্গে দেহকে আটকে রেখে বা মুক্তভাবে সাঁতার কাটে

উদাহরণ : হাইড্রা, ওবেলিয়া।