কোষ বিভাজন

তোমাকে যদি জিজ্ঞাস করা হয় জীবনের ছোট এককটি কি ?

এই পৃথিবীতে যা কিছুর জীবন আছে, প্রাণী, জীবাণু এবং সবুজ গাছপালা থেকে শুরু করে সবকিছুর একক হচ্ছে কোষ। সেটা মাত্র একটি কোষ দিয়ে গঠিত প্রাণী যেমন E. Coli ব্যাকটেরিয়া হোক আর আমাদের মতো মানুষ যেখানে মানুষ প্রায় ১০ ট্রিলিয়ন কোষ ধারা গঠিত। আর অবশ্যই আমরা কয়টি কোষ দিয়ে তৈরি সেটা না, প্রাণীভেদে কোষ এর গঠন ও ভিন্ন ভিন্ন।

সমস্ত জীবিত প্রাণী তাদের কোষগুলি বৃদ্ধি, মেরামত এবং পুনরুৎপাদন করতে পারে । যাইহোক, তুমি কি কখনও চেয়ার বা টেবিল নিজেই আর একটি চেয়ার বা টেবিল বানিয়ে ফেলেছে এমন দেখেছো? শুধু জীবন্ত জিনিষ আছে জেনেটিক তথ্য প্রতিলিপি করার ক্ষমতা।

যখন কোষ বিভাজন হয় তখন ঠিক নিজের মতো আর একটা কোষ তৈরি করে।

তুমি যখন একদম ছোট ছিলা তখন তোমার যতগুলা কোষ ছিল এখন তার থেকে অনেক বেশি, আর এই কোষ গুলো কিভাবে বাড়লো অথবা তুমি কিভাবে বড় হলে, এটাই হয়েছে কোষ বিভাজন এর মাধ্যমে।

তাহলে কোষ কেন বিভাজন হয় ?

বংশবৃদ্দি করতে: মানুষ যখন ছোট থেকে বড় হচ্ছে অথবা একটা গাছ যখন বড় তখন কোষ বিভাজন এর মাধ্যমে হচ্ছে। আর এটাকে মাইটোসিস কোষ বিভাজন বলা হয়।

ক্ষত মেরামত করতে: যদি কোনও জীব আহত হয়ে যায়, তার দেহটি ক্ষতটি মেরামত করার জন্য প্রয়োজনীয় কোষগুলি তৈরি করতে মাইটোসিস কোষ বিভাজন হয়ে নতুন কোষ তৈরি করে।

কোষ বিভাজন তিন ধরণের হয় –

১. অ্যামাইটোসিস: অ্যামাইটোসিস সাধারণত এককোষী জীবে হয়। যখন একটি মাতৃকোষের নিউক্লিয়াস ও সাইটোপ্লাজম কোনো জটিল মাধ্যমিক পর্যায় ছাড়াই সরাসরি বিভক্ত হয়ে দুটি অপত্য (শিশু) কোষের সৃষ্টি করে তাকে অ্যামাইটোসিস বা প্রত্যক্ষ কোষ বিভাজন বলে।

২. মাইটোসিস: যে বিভাজনে প্রকৃত কোষের নিউক্লিয়াস ও ক্রোমোজোম উভয়ই একবার করে বিভক্ত হয় তাকে মাইটোসিস বা সমিকরনিক বিভাজন বলে। এই কোষ বিভাজন কে সমিকরনিক বলা হয় কারণ এতে অপত্য কোষ হুবুহু মাতৃ কোষের মত হয়ে থাকে। অপত্য কোষের ক্রোমোজোম সংখ্যা হুবহু মাতৃকোষের অনুরূপ হওয়ার ফলে কোষের বৈশিষ্ট্য ও অভিন্ন থাকে।

মাইটোসিস কোষ বিভাজন দুটি পর্যায়ে সম্পন্ন হয় – ক্যারিওকাইনেসিস বা নিউক্লিয়াসের বিভাজন ও সাইটোকাইনেসিস বা সাইটোপ্লাজমের বিভাজন ।

ক্যারিওকাইনেসিস ৫ টি ধাপে হয়-

  • প্রোফেজ
  • প্রো-মেটাফেজ
  • মেটাফেজ
  • অ্যানাফেজ
  • টেলোফেজ

৩. মিয়োসিস: যে বিভাজনে নিউক্লিয়াস পরপর দুইবার ও ক্রোমোজোম একবার করে বিভক্ত হয়ে মাতৃকোষের ক্রোমোজোমের অর্ধেক সংখ্যক ক্রোমোজোম যুক্ত চারটি অপত্য কোষ সৃষ্টি হয় তাকে মিয়োসিস কোষ বিভাজন বলে।